শান্তিপুর বড় গোস্বামী বাড়ি
গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের ইতিহাসে শান্তিপুরের বড় গোস্বামী বাড়ির স্থান অতি উচ্চ। এটি সেই পবিত্র ভূমি যেখানে শ্রী অদ্বৈতাচার্য তাঁর ভক্তিবলে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবকে মর্ত্যে আহ্বান করেছিলেন।
ইতিহাস বলে, পাঁচ শতাব্দী আগে শ্রী অদ্বৈতাচার্য ভারত ভ্রমণকালে নেপালের গন্ডকী নদীতে স্নান করার সময় একটি অলৌকিক 'নারায়ণ শিলা' পান। তিনি এই জীবন্ত শিলা শান্তিপুরে নিয়ে আসেন এবং মহাপ্রভুর তিরোভাবের পূর্বে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র বলরামকে এর সেবার ভার অর্পণ করেন। সেই থেকে বংশপরম্পরায় এই নারায়ণ শিলা পূজিত হয়ে আসছেন।

মন্দিরের প্রধান বিগ্রহ 'শ্রী শ্রী রাধারমন' ১০০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন। একসময় পুরীতে দোলগোবিন্দ রূপে পূজিত এই বিগ্রহ ১৫৮৮ সালে মথুরেশ গোস্বামী শান্তিপুরে নিয়ে আসেন। পরম আদরে তিনি বিগ্রহকে বড় গোস্বামী বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন।


আপনি কি জানেন পশ্চিমবঙ্গের শান্তিপুরে বড় গোস্বামী গৃহে একমাত্র পূজিতা হন দেবী কাত্যায়নী।
পুরান মতে দেবী কাত্যায়নী হলেন ঋষি কাত্যায়নের কন্যা এবং দেবীর নবরূপের একরূপ।
দেবী কাত্যায়নীর পূজা করা হয় সিদ্ধিদাত্রী হিসেবে কথিত আছে বৃন্দাবনের সখীরা শ্রীকৃষ্ণ বিরহে এই
ব্রত পূজা পালন করেন।
প্রায় ৩৫০ বছর ধরে মহালয়ার পরদিন প্রতিপদে ঘটস্থাপন করে পূজা শুরু হয়।
এই দেবীর পূজা পদ্ধতি সম্পূর্ণভিন্ন, ভিন্ন দেবীর আকার। দেবী কাত্যায়নী বড় গোস্বামী গৃহে
স্বপরিবারে পূজিতা হন। উল্লেখ্যদেবীর কার্তিক ও গনেশ বিপরীতে অধিষ্ঠিত এবং দেবীর আটহস্ত মুষ্ঠিবদ্ধ
শিশু কন্যার ন্যায় ও দুই হস্ত সংহারের প্রতীক।
কথিত আছে বড় গোস্বামী গৃহের কূলদেবতা মথুরেশ আনীত শ্রী দোলগোবিন্দ একদা মন্দির থেকে অন্তরীত হন।
গোস্বামী প্রভুদের উপদেশে বৃন্দাবনের ন্যায় গোস্বামী বধূরা কাত্যায়নী ব্রত পালন করে এবং
দোলগোবিন্দের খোঁজ পাওয়া যায় দীঘনগরের নিকট দীঘিতে। সেইখান থেকে দোল গোবিন্দ উদ্ধার কার্য্য
সম্পাদন করেন নদীয়ারাজ পরিবার। এই দোলগোবিন্দ কে পুনরায় মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করা হয় সেই থেকে আজ
অবধি কাত্যায়নী পূজা পালিত হয় বড় গোস্বামী গৃহে।।
পূজার সময় ৩৬ ব্যঞ্জন সহযোগে মাতৃভোগ দান হয়। সকালে নৈবদ্যর পর বাল্যভোগ এ থাকে যুগলান্ন ও
মুখসুদ্ধিতে থাকে পান।
নবমীর প্রভাতে গোস্বামী পরিবারের সকলে মিলে এক বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেয়। সেই প্রার্থনা প্রথমে
বিশ্ববাসী তারপর দেশবাসী তারপর রাজ্যবাসীর উন্নতির প্রার্থনা করা হয়।

রাধারমন জিউকে রাজবেশে সজ্জিত করা হয়। তবে এখানকার বিশেষ আকর্ষণ হলো 'ভাঙ্গারাস' বা নগর সংকীর্তন। বিশাল শোভাযাত্রা সহকারে বিগ্রহকে নগর ভ্রমণে বের করা হয়।

শ্রাবণ মাসে ঝুলন পূর্ণিমায় তিন দিনব্যাপী বিশেষ উৎসব পালিত হয়। রাধারমন এবং শ্রীমতির যুগল বিগ্রহকে ঝুলন মন্দিরে বিশেষ ভোগ ও আরতি নিবেদন করা হয়।
ভক্তরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী রাধারমন জিউর সেবার জন্য বুকিং করতে পারেন।
বড় গোস্বামী বাড়ি, শান্তিপুর, নদীয়া
+91 98000-00000
ayan.goswami@gmail.com
সকাল ৭:০০ - দুপুর ১:০০
বিকাল ৪:০০ - রাত্রি ৮:০০